শিশুদের মানসিকভাবে তৈরি করুন
কয়েকটি ছবি দিলাম। প্রথম ছবিটি বাণিজ্য মেলার একটি শিশুদের খেলনা বিক্রয়ের স্টল থেকে তোলা। নানারকম খেলনা দেখতে পাচ্ছেন এখানে। গিটার, খেলনা পশু, গাড়ি ইত্যাদি। সেই সাথে আছে একে-৪৭ রাইফেলও। চমৎকার খেলনা, তাই না?

এবার আসুন, সাম্প্রতিক কিছু খবর পড়ি
- উত্তরায় কিশোরদের দুই গ্রুপের বিবাদের জেরে হত্যা করা হলো এক কিশোরকে।
- ফরিদপুরে মোটর সাইকেল কিনে না দেয়ায় বাবা-মা’র গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এক কিশোর।
- মতিঝিল এজিবি কলোনির কিশোর বাইকারদের দলের সন্ত্রাসের বলি হলেন একজন মা।
- ড্রাগ এ্যাডিক্ট কিশোরী ঘুমের বড়ি খাইয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করলো তার বাবা-মাকে।
- ফেসবুকের ‘আনসেন্সর্ড’ গ্রুপে রাতভর অশ্লীলতায় মগ্ন কিশোর-কিশোরীরা।
- ভাবছেন, সামান্য খেলনার প্রসঙ্গে এত কথা কেন বলছি? এবার নিচের একটি ছবিটি দেখুন।

এই মেয়েটা এসেছে বাণিজ্যমেলারই অন্য একটি স্টলে। বিস্মিত হয়ে দেখছে নানারকম বিজ্ঞানের টুলস। ছবিটা দেখুন, আর ভাবুন। একটা আশাবাদ জাগে না? একটু ভরসা পাওয়া যায় না?
আমাদের অবহেলা এবং অজান্তেই বিলপ্ত হয়ে যাচ্ছে শিশুদের বিনোদন আর সৃজনশীলতা। তারা আসক্ত হয়ে পড়ছে যৌন এবং অপরাধের প্রতি। এই নগরায়নের যুগে শুধুমাত্র আপনার শিশুর অবসর সময়টাকে ঠিকভাবে কাজে না লাগানোর কারণে তারা হয়ে পড়ছে বিচ্ছিন্ন আর বিষণ্ণ। আনন্দের খোঁজে বেছে নিচ্ছে ধ্বংসাত্মক উপায়। এর প্রভাব থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন বলে ভাবছেন?
ঐশির বাবা-মা বাঁচতে পারে নি, রাজনের বাবাও পারে নি। তাই, সময় থাকতেই সতর্ক হোন। আজ আপনি মরবেন, কাল আমি মরবো, পরশু পুরো দেশেই গণহত্যা লেগে যাবে।
শিশুরদের অবসর হোক সুন্দর। আর এর জন্য কিছু পরামর্শ হতে পারেঃ
বাজরিগার পাখি পালন

আপনার শিশুকে বাজরিগার পাখি পালন শিখানো শুরু করুন। আপনার শিশু বুঝতে শিখলে তাকে বন্যপাখি ও খাচার পাখির পার্থক্য বলে দিন। আপনার শিশুর বয়স ১৩-১৪ বছর হলে তাকে দুই জোড়া পাখি ক্রয় করে দিন। পাখিকে খাবার দেয়া এবং দেখাশুনা করার জন্য, আপনার শিশুর অলস সময় বাজে বন্ধুদের দিতে পারবে না।
নতুন পাখি ক্রয়ের জন্য পকেট খরচ থেকে টাকা বাচিয়ে পাখি ক্রয় করার অভ্যাস হলে, সে আর অন্য বাজে অভ্যাসে টাকা খরচের জন্য চিন্তা করবে না। যখন পাখি ডিম দিয়ে বাচ্ছা করবে তখন সে পড়ালেখা ছাড়া অন্য সময় পাখি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
গল্প লেখার অভ্যাস তৈরি করুন

শিশুরা গল্প শুনতে পছন্দ করে। রঙীন ছবিওলা মজার গল্পের বই হলে তো কথাই নেই! গল্পের প্রতি এই আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে আপনি তাকে আরো সৃজনশীল করে তুলতে পারেন। এমনিতে হয়তো সে তেমন আগ্রহ বোধ নাও করতে পারে।
তবে যদি বলেন, আপনার বা অন্য কারো সাথে প্রতিযোগিতা করে গল্প লিখতে হবে, এবং জিতলে পুরষ্কার দেবেন, তাহলে সে উৎসাহী হবেই। আর এক্ষেত্রে যে আপনি ইচ্ছে করে বারবার হেরে যাবেন তা তো বলাই বাহুল্য!
অরিগ্যামি বা ট্যানগ্রাম জাতীয় খেলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করুন

কিছু কাগজ, কিছু নকশা, আর অনেক আনন্দ। শুধু শিশুদের জন্যে না, আপনি নিজেও মজা পাবেন অনেক!
বোর্ড গেম খেলার অভ্যাস করুন

বাচ্চাদের লুডু, চেকারস, দাবা ইত্যাদি বোর্ড গেম শেখান। এগুলো যেমন আনন্দ যোগাবে, তেমন বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশেও সহায়ক হবে। দাবার কথা বিশেষ ভাবে বলতে হয়। দাবা তো স্রেফ একটি খেলা না, একটি বিজ্ঞান! খেলতে খেলতে বিজ্ঞান চর্চা, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!
জাদুঘরে নিয়ে যান এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানান

প্রথম জাদুঘরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রত্যেক শিশুর জন্যেই বিশেষ। পুরাতন আমলের বিশাল বিশাল খাট-পালঙ্ক, তিমি মাছের ফসিল, নৌকা, উল্কাখণ্ড, নানারকম জিনিস দেখে সে আনন্দে আপ্লুত হবে, জানার আগ্রহও তৈরি হবে।
চিঠি লেখার অভ্যাস করুন

খুব দূরের কাউকে না, পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই চিঠি আদান প্রদান করুন। এতে বাচ্ছারা লেখার শৈলী অর্জন করবে, এবং পরস্পরের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে।
“বাচ্চাদের সুস্থ মানসিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমার, আপনার, সমাজ এবং দেশের।” (এমদাদ)
- এই আর্টিকেলটির মূল লেখক – হাসান মাহামুদ।
- পাখি বিষয় নিয়ে লেখাটি লিখেছেন – সুলতান বাবু।
- সম্পাদনা এবং উক্তি লিখেছেন – এমদাদ খান (এডমিন)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত শেয়ার করুন