পাখির জন্য আদা বা Ginger এর উপকারিতা

আদার ইংরেজি নাম Ginger এবং বৈজ্ঞানিক নাম Zingiber officinale । আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। আদা খাদ্য শিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। ৫০০০ বছর পুর্বে থেকে আদা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইহাতে প্রায় ৫০ ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। আদার অনেক ঔষধি গুন আছে ।

আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে একটি হচ্ছে আদা। মহৌষধ নামে খ্যাত এ আদার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভেষজ গুণ।

প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকে চীনা ভেষজবিদেরা নানা শারীরিক সমস্যায় আদা ব্যবহার করে আসছেন। আদাতে আছে শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যালার্জি প্রতিরোধক উপাদান। যা একাধিক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। এ আদায় রয়েছে-ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক, লবণ, পটাশিয়াম, ভোলাটাইল, অয়েল ইত্যাদি। এটি একটি ভেষজ ওষুধ।

পাখির খামার ব্যবস্থাপনায় আদার ব্যবহারে যে গুনাগুন রয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হলঃ

  • পাখির ঠান্ডা লাগায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। ১ চা চামচ আদার রস + ১ চা চামচ তুলসীর রস + ১ চামচ মধু ১ লিটার কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খাওয়ালে, ঠান্ডা ম্যাজিকের মতো ভালো হয়ে যায়।
  • প্রাকৃতিক এন্টিহিস্টামিন ও এন্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা পাখির দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ( ১চা চামচ ১ লিটার পানিতে সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন)।
  • পাখির দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে।
  • পাখির আমাশয়, হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে বেশ কার্যকরী এই অতুলনীয় আদা।
  • পাখির দেহে খাবারের পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায় আদা। তাই সপ্তাহে কমপক্ষে 3 দিন ১ চা চামচ আদার রস বা পেস্ট ১ লিটার পানিতে দেওয়া যেতে পারে।
  • আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা পাখির দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে , পাখির স্বাস্থ্য উজ্জ্বল রাখে। রক্ত শুন্যতা দুর করে।
  • আদা পাখির সেন্ট্রাল নার্ভস সিস্টেম কে উত্তেজিত করে রক্ত পরিসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, রক্ত নালি প্রসারিত করে। ফলে শীতকালেও পাখির শরীর গরম রাখে। অন্যান্য মৌসুমেও পাখির শরীরের তাপ মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে।
  • আদা পাখির লিভারের কার্য ক্ষমতা বাড়ায় ও শক্তি যোগায় এবং কৃমি নিঃসরণ করে।
  • পাখির ডায়রিয়া , খাবারে বিষক্রিয়া ও পেটের সমস্যা এড়াতে আদার রসের গুন চমৎকারী, যার বিকল্প নেই।
  • পাখির খাদ্য চাহিদা বাড়াতে আদার জুড়ি নেই।(১ চা চামচ আদার রস + ১ চা চামচ ১ লিটার পানিতে )।
  • পাখির যেকোনো ধরনের আঘাতের ব্যাথা সারাতে সক্ষম আদার রস বা পেস্ট , সাথে মধু মিশালে ,এর গুন আরো বৃদ্ধি পায়। ( ১ লিটার পানিতে ১ চা চামচ আদার রস + ১ চা চামচ মধু )।

অন্যান্য ভেষজের সাথে আদার ব্যবহার যা আদাকে আরো বেশি গুন সমপন্ন করে তা হলঃ

  • আদা + মধু
  • আদা + তুলসী
  • আদা + কালোজিরা
  • আদা + রসুন
  • আদা + লেবুর রস
  • আদা + দারুচিনি

ব্যবহারঃ ১ চা চামচ আদার রস বা পেস্ট + ১ চা চামচ অন্যান্য ভেষজ ১ লিটার পানিতে।

নিয়মিত আদা ব্যবহারে খামারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ব্যাপক উপকার পাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ওষুধের খরচ কম যাবে তথা রোগ আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না।

প্রকৃতিতে সব রকম রোগের ওষুধ ই বিদ্যমান। আদা হলো প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক, যা সকল রোগবালাই দের হওয়া থেকে বাঁচাতে এন্টিবডি এর ভূমিকা পালন করে। সেজন্য প্রাচীন কাল থেকেই আদাকে আন্টিহিস্টামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তাই আমাদের উচিত খামারে আদার ব্যবহার বাড়িয়ে, উপকৃত হওয়া। রাসায়নিক এন্টিবায়োটিক থেকে বিরত থাকা নতুন রোগবালাইদের ডেকে না আনা।

সংগৃহীত এবং সম্পাদিত লেখা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুরগির BCRDV ভ্যাকসিন এর দাম কত এবং কিভাবে দিতে হয়

শিশুদের মানসিকভাবে তৈরি করুন

বাজরিগার ও ককাটিয়েল পাখির চোখের সমস্যার সমাধান