বাজরিগার পাখি পালনে সফলতার গল্প # ১

বাজরিগার পাখি পালনে অবশেষে সফলতা,আগেরবার দশটা ডিম দিল। একটাও ফুটল না। মন খারাপ হলো। ১ মাস চেষ্টা করলাম। মেয়েটা কেন যেন ডিম ফেলে দিত হাঁড়ি থেকে। জোড়া ভেঙ্গে দিলাম। Flying কেজ এ ছেড়ে দিলাম। ৩/৪ মাস পর সেপ্টেম্বর /অক্টোবর এর দিকে আবার breeding cage এ দিলাম।


সরকারি চাকরির কারনে প্রাায় ৬ মাস ঢাকার বাইরে থাকতে হয়। প্রতি সপ্তাহেই ফিরে আসি। তবে শনিবারে ঢাকা ছাড়ি। ঐ ২/১ দিনেই খাঁচার কাছাকাছি ঘন্টাখানেক দাড়িয়ে দেখি কি অবস্থা! ওদের মেটিং করতে কখনও দেখি নাই।


ঢাকায় থাকার সময় চেষ্টা করতাম শাক-সবজি দিতে। নভেম্বর থেকে দেখলাম মেয়েটা হাড়িতে বসে থাকে, বেড়োয়না। ডিম দেয়ার আগে আগে এদের পুপস পরিবর্তনটা আমি জানি, তাই হচ্ছিল, কিন্তু হাড়ি check করি নাই। যখন আর ধৈর্য্য হচ্ছিল না দেখলাম হাড়িতে ৬টা ডিম। ই-সেল দেয়া শুরু করলাম, কিন্তু ২/৩ দিন দেয়ার পরই ঢাকা ছাড়লাম। বাসায় দেখার কেউ নাই। উল্টো বিরক্ত। অনেক ময়লা করে ওরা।


বউকে ধন্যবাদ শুধুমাত্র পানি পরিবর্তন করে দিত ৬ ঘন্টা পরপর। যাই হোক, ডিসেম্বরের শেষ সময় সরকারি সফর শেষ করে এসে হাড়িতে দেখলাম ১ ইঞ্চি কিছু একটা নড়ছে। মেয়েকে বললাম, বউকেও। এবার একটু খুশি দেখলাম সবাইকে। পরেরদিন থেকে আমি বাসায় না থাকলেও সবুজ শাক-সবজি পেতে থাকল পাখিরা।


তবে দুঃখ একটাই সবগুলো ডিম ফুটলনা। মাত্র ২টা ফুটল। প্রথমবারের মত সফলতা। শুকরিয়া আল্লাহর কাছে। তবে অনেক কিছুই শিখলাম।


ধন্যবাদ সবাইকেই। কারন সবগুলো সোসাইটি থেকেই অভিজ্ঞতা নিয়েছি। আমার সমস্যাটা অন্য কারও হয়ে থাকলে কে কি বলল সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়েছি। তবে সবচেয়ে যেটা কাজের মনে হয়েছে তা হলো বাজার থেকে কিনে আনা seed গুলো ধুয়ে ব্যবহার করা। যার কারনে হাড়িতে থাকার সময় মেয়ে পাখিটা সুস্থ ছিল, পানিও দিতাম ফুটানো এবং কুসুম কুসুম গরম।


বাবা পাখিটার কষ্ট দেখে মনে হয়েছে আমি নিজের বেলায় এর বিন্দু পরিমান কষ্ট করি নাই অথচ বাবাবা পাখিটা সবসময় বউকে খাওয়ানো এবং বাচ্চাদের এখন পর্যন্ত খাওয়ানোর কাজটা সেই করে যাচ্ছে। এবার আবার ২/৪ মাসের বিশ্রাম তারপর হয়ত আবার ওদের জোড়া মিলিয়ে দিব।


এই আর্টিকেলটির মূল লেখক TANVIR BHAI

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুরগির BCRDV ভ্যাকসিন এর দাম কত এবং কিভাবে দিতে হয়

শিশুদের মানসিকভাবে তৈরি করুন

বাজরিগার ও ককাটিয়েল পাখির চোখের সমস্যার সমাধান