কবুতর বাজারের নাটক
কবুতর বাজারের নাটক, যার ফলশ্রুতিতে আজ বাজারের এই দুর্বল অবস্থা। কম বেশি কিন্তু আমরা সবাই দায়ী এই পরিস্তিতির জন্য।
ঘটনা ১
বিক্রেতাঃ ডিম বাচ্চা গ্যারান্টি। আমার এখানে বাচ্চা রেখেই ডিম দেয়।
ক্রেতাঃ ভাই দুইমাস হয়ে গেল, ডিম তো দেয় না। আপনার কবুতর আপনি নিয়ে যান।
বিক্রেতাঃ ওকে ভাই ফেরত নিব। তবে, তার আগে আমি আপনার খামারটা দেখতে চাই।খামার দেখতে গিয়ে দেখা গেল খামারে বিড়ালের আনাগোনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ,আশেপাশে রোগের মহোৎসব। তার উপর এমন জায়গায় কবুতর রাখা হয়েছে যে দুই মাস আগেআনা কবুতরের ট্রেস এখনও কাটে নাই। তার উপর খাবার ও খুব উন্নত মানের (ধানখাওয়ানো হচ্ছে), বললাম ভাই এই পরিবেশে ডিম দিবে তো দূরের কথা বেঁচে যে আছে তাই তো অনেক।
ক্রেতাঃ কি বলেন ভাই। পরিবেশের খারাপ কি দেখলেন? আমার বাংলা জোড়া তো ডিম বাচ্চা করেই যাচ্ছে।
বিক্রেতাঃ ভাই এই পরিবেশে বাংলা/ গোলা পালতে পারলেও পারতে পারেন। তবে, ফেন্সি পালার নাম নিয়েন না।
ঘটনা ২
ক্রেতাঃ ভাই এক জোড়া ভাল গিরিবাজ হবে ?
বিক্রেতাঃ আছেতো ভাই, ডিম বাচ্চা ভাল করে। অনেক বড় বড় জাতের বাচ্চাও বড় করতে পারে। কালার ও সুন্দর।
ক্রেতাঃ কত ভাই ?
বিক্রেতাঃ ১৪০০।
ক্রেতাঃ ভাই ৮০০ দিব। পারবেন ?
বিক্রেতাঃ লাস্ট ১১০০ লাগবে।
ক্রেতাঃ কি বলেন ভাই, এক জোড়া বেবি সহ গিরিবাজ ১০০০ সাধতেছে। আপনার গুলার কি বেবি আছে ?
বিক্রেতাঃ না, বেবি নাই। তবে কয়েকদিন পর ডিম দিবে।
ক্রেতাঃ না, ভাই তাহলে ৬০০ দিব। আমিতো ভাবছিলাম ডিম সহ দিবেন।
বিক্রেতাঃ সরি ভাই। এখনও এত স্বস্তা হই নাই।
বাস্তবতাঃ
কিছু কবুতর পালক কবুতর সেল না করে কবুতরের নেক্সট জেনারেশন পুরাটাই সেল করে দেন সাথে ফ্রিতে দেন সেই জেনারেশনের শাড়ি কম্বল খাতা বালিশ। কিন্তু এই কাজটা করেন এক জোড়া কবুতরের দামে। পারলে কিছু খাবারও দিয়ে দেন। কাউকে উৎসাহী করতে ফ্রিতে পুরা খামার দিয়ে দেন প্রবলেম নাই। কিন্তু দয়া করে লেনদেনের সময় এসব করবেন না। এতে করে আপনার পেয়ারটার দাম কমে যায়। দয়া দেখানো ভাল। তবে, দয়াটা যেন আপনার দুর্বলতার কারণ হয়ে পরে না দাড়ায় সেটাও খেয়াল রাখা উচিৎ।
ঘটনা ৩
ক্রেতাঃ আপনার কাছে ফেন্সি আইটেমের ডিম হবে ?
বিক্রেতাঃ আছে ভাই। এক জোড়া ফ্রিল ব্যাকের ডিম আছে। ৩০০০ লাগবে।
ক্রেতাঃ কি বলেন ভাই, ডিমের এত দাম ? ৩৫০০ দিয়ে বেবি পাওয়া যায় আর ৬০০০ দিয়ে রানিং পাওয়া যায়।
বিক্রেতাঃ আপনি কত বলেন ?
ক্রেতাঃ ৭০০ দিব সর্বোচ্চ।
বিক্রেতাঃ ৬০০০ টাকার কবুতরের ডিম ৭০০ ? ক্যামনে কি ? দয়া করে হিসাবটা একটু বুঝান।
ক্রেতাঃ যেহেতু রানিং ৬০০০ তাই, তার নিউ এডাল্ট ৪০০০, ২-৩ পরের ২৫০০, খাওয়া শিখছে এমন বাচ্চা ১৫০০ আর ডিম তার অর্ধেক।
বিক্রেতাঃ ভাই এই নীতি কোথায় লেখা আছে ?
বাস্তবতাঃ
আমরা অনেকেই কবুতরের দাম কমা নিয়ে ইম্পোর্টারদের দোষ দেই। হ্যাঁ তারা দোষী। কিন্তু আমরাও কি এর জন্যে কিছুটাও দায়ী না ?
আমি দায়ভার আমাদের উপরেই রাখব। একজন ক্রেতা যখন ৬০০০ টাকার কবুতর ৭০০ টাকায় পাওয়ার স্বপ্ন দেখবে তখন সেই কবুতরের আর দাম থাকবে না। সে কোনমতে এক পেয়ার তুলতে পারলেই হল। এরপর সে এই কবুতরের বাচ্চার দাম ১২০০-১৫০০ এর উপর আশাও করবে না। এবং তার সাথে তাল মিলিয়ে আপনার ৬০০০ টাকার কবুতরের বাচ্চাও ১২০০-১৫০০ তে বিক্রি করতে হবে। একজন যখন আপনাদের থেকে ১২০০-১৫০০ দিয়ে বাচ্চা কিনবে সে রানিং পেয়ার ৩০০০ এর উপরে আশা করবে না। এভাবেই কবুতরের দাম ৬ মাস অন্তর অন্তর অর্ধেক হয়ে যায়। একসময় দাম একেবারে কমে গেলে রাগে কষ্টে কষ্ট দেয়া শুরু করে অবুঝ এই প্রাণীটাকে। যেন, দোষটাই কবুতরটার। আবার অনেকে বলেও ফেলেন, এই জোড়াটা কিনে ধরা খাইছি।
করণীয়ঃ
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ডিম বাচ্চা সেল করিনা। নিউ এডাল্ট পেয়ার সেল করি, তাও রানিং এর দামের কাছাকাছি পেলে। নয়তো রানিং করেই করি। অনেকে ডিম খুঁজে। আমি বলে দেই রানিং জোড়ার থেকে ৪০০ টাকা কমে ডিম নিতে পারলে বেচব না পারলে নাই।
কারণঃ এক জোড়া গোল্লা বা বাংলা বড় করতে যা খরচ এক জোড়া দামী কবুতরেরও বলতে গেলে তাই খরচ। সুতরাং, অর্ধেক, ৪ ভাগ ৮ ভাগের হিসাব করে এই সেক্টরকে ধসানোর কোন মানে হয় না। যে আজ বাচ্চা কিনতে আগ্রহী সে কাল রানিং ই কিনবে।
আর অনেক নতুন পালক বাচ্চা কিনে বড় করতে করতে মেরে ফেলে। বা বিরক্ত হয়ে যায়। ফলে তার কবুতর পালাটাই আর শুরু করা হয়ে উঠে না। যারা পুরান খামারি, তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা দয়া করে কাউকে কম দামে কিছু দিবেন না। সেটা ডিম বাচ্চা যাই হোক। আর এসব কেনাবেচা না করাই ভাল।
অবশেষে আমার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্তঃ
১) কবুতরের ব্যাপারে গ্যরান্টি দেয়ার আগে কবুতর খামারের অবস্থা জেনে নিব।
২) কাউকে রানিং কবুতরের সাথে ডিম বাচ্চা খানার বাটি মালসা এসব কোন কিছুর অফার করবো না। স্পেশালি কেউ কিছু চাইলে সেটার দাম দিতে হবে। কবুতরের দামের সাথে এসব জুড়িয়ে কবুতরের দাম কমানোর মানে হয় না।
৩) বাচ্চা, ডিম এসব বিক্রির ধারে কাছেও যাব না। কাউকে এসব গিফট ও করবো না। গিফট করতে পারলে রানিং ই করবো।
আর্টিকেলটির মূল লেখকঃ Moha Papi Ruhan
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত শেয়ার করুন